হটাৎ একদিন তার মোবাইল থেকে কল আসলো। অপাস থেকে,,,,
নিলাঃ- হেলো আকাশ!
আমিঃ- হ্যাঁ! নিলা বলো। তুমি তো বিপদ ছাড়া কল এই দাও না।
নিলাঃ-একটা কান্ড হয়েছে। কি করি বলতো।
আকাশঃ- বলো কি হয়েছে৷ কি করতে হবে আবার তোমার জন্য।
নিলাঃ- আমার চাকরিটা চলে গেছে। এইদিকে বাড়িওয়ালা ও বলতেছে একটা নতুন বাসা খুজার জন্য। কি করবো বলতো।
আমিঃ- এইসব ব্যাপারে আমাকে কল দিবে না। আমি কিছু করতে পারবো না।
নিলাঃ- এই হেলো, হেলো,, টুট টুট টুট,,,,,,,,,,!
আমি আর কিছু না বলে কলটা কেটে দিলাম। তারপড় ২ দিন পড় শোনতে পারলাম নিলা বাড়িতে গিয়েছে। আমার আম্মু আমাকে কল দিয়ে বলতেছে তাদের বউ মা তাদের বাড়িতে না গিয়ে নিলাদের বাড়িতেই কেনো রয়ে গেলো। আমি কোনো কিছুই মিলাতে পারছিলাম না কি করবো সেই মুহুর্তে। আমি কোনো হদিস না পেয়ে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিলাম। আর বাড়ির উদ্দেশ্য রোওনা হলাম। অবশেষে দির্ঘ আট মাস পড়ে বাড়িতে এসেছি। কিছুদিন পড়েই আবার ঈদ। আমি আমার বস কে বলে লম্বা একটা ছুটি নিয়ে আসলাম। আমি বাড়িতে আসার পড় সুজা চলে গেলাম নিলা আপুদের বাড়িতে। আমি সব কিছু গুছিয়েই তাদের বাড়িতে ডুকতেই প্রথমে তার ভাবি এবং আমার শ্বাশুড়ি সংগে দেখা। সালাম দেওয়ার পড় আমাকে নিলার রোমে পাঠিয়ে দিলো। আমি রোমে ডুকেই দেখি নিলা বসে আছে। আমিও কিছু বলছি না সে ও কিছু বলছে না। অবশেষে নিলা আমাকে বলতেছে আমি কেনো বাড়িতে এলাম। এখন না আসলে কি হতো না।
আমি নিলাকে বললাম তোমার বাবা মা যদি তোমার আপন হয়, আমার বাবা মা কি আমার আপন নয়। তারা বলতেছে তাদের বউ মাকে তাদের বাড়িতে দেখতে চায়। কি করবো বলো। নিলা আমার কথা শোনে রেডি হয়ে আমার সাথে বাড়িতে চলে এলো। আমি ভেবেছিলাম হয়তো নিলা সব কিছু মেনে নিয়েছে। সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিলো, শুধু কমতি ছিলো আমাদের দুজন এর। রাতে আম্মু আমাদের একঘরে ঘুমাতে দিয়েছে। দিলেই কি হবে। নিলা তো শুধু কাগজে কলমেই বউ।
আমি সেদিন সুফায় বসে বসে ফোন টিপছিলাম। আমি জানি নিলার কাছে আমার জায়গা হবে না তাই তার কাছেও গেলাম না। নিজের অজান্তেই আমার চোখ দিয়ে স জুরে কান্না চলে আসছে। এইটা ভাপতেই যে যে মেয়ে আমার সাথে তার পারসনাল বিষয় গুলোও শেয়ার করতো, সেই মেয়ে আজ আমার বাড়িতে থেকে আমার সাথেই কথা বলছে না। ভাপতে ভাপতে আরও কান্না চলে আসলো। নিলা আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তার পড় আমাকে জিজ্ঞেস করলো নিলা।
নিলাঃ- কি হয়েছে।
আমিঃ- না কিছুই না।
নিলাঃ- কান্না করছিস কেনো।
আমিঃ- আমার অনেক কষ্ট বেদনা আমি আমার জীবন টা শেষ করেদিয়েছি৷
নিলাঃ- সব আমার জন্যই হয়েছে তাই না।
আমিঃ- হ্যাঁ নিলা হ্যাঁ। সব তোমার জন্যই হয়েছে নিলা। আমি কি না করেছি তোমার জন্য, সেই ছোট বেলা থেকে তোমার আসে তোমার পাশে সব সময় লেগে ছিলাম। অনেক পছন্দও করতাম। তুমি বড় তাই কিছু বলার সাহস জুগাইনি। আপদে বিপদে সব সময় তোমার পাসে থেকেছি। তুমি সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার জীবন টা শেষ করে দিয়েছো নিলা। শেষ করে দিয়েছো। আজ আমার এই অবস্থা হয়েছে শুধু মাত্র তোমার জন্য, আজ আমি একটা মুহুর্ত ভালো থাকতে পাড়ি না শুধু তোমার জন্য। আজ কতদিন শান্তিতে ঘুমাতে পাড়ি না শুধু তোমার জন্য। আমি নিশ্ব হয়ে গেছি নিলা। আমি বাঁচতে চাই কিছু দিন। ভাল থাকতে চাই কিছু দিন। শান্তিতে থাকতে চাই কিছু দিন। বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম।
অনেক রাত হলো ঘরে আসছিলাম না। রাস্তা দিয়ে একা একা হালকা হিমেল হাওয়ায় গুড়ে বেড়াচ্ছিলাম। মন টা কিছুতেই ভাল করতে পারছিলাম না। তবে বাহিরে থাকা অবস্থায় বেস ভালই লাকছিলো। শেষ রাতে অনেক ক্লান্তি চলে আসলো। ভেবেছিলাম আম্মুকে ডেকে আম্মুর ঘরে ঘুমাবো। বাড়িতে ডুকে দেখি ঘরের দরজা টা একটু ফাক করা। আমি ঘরে ডুকে দেখি নিলা নাক ডেকেই ঘুমাচ্ছে। খুব ক্লান্তিতে আমিও সুফায় সুয়ে পড়লাম আর ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে,,,,,

0 Comments: