এই কই গেলা, খেতে আসো,
হ্যাঁ, আসছি, তুমি সব রেডি করো।
আমি সব রেডি করেই বসে আছি, তুমি মোবাইল নিয়ে পড়ে আছো। তুমি জানো না তুমি না খেলে আমি খাই না। আমার গলা দিয়ে খাবার যায় না।
অরে আমার লক্ষী শোনা, একটু খায়িয়ে দিবা।
আমি পারবো না।
আমার লক্ষী শোনা,ছোট বেলায় মনে নাই, পাতিলে মিসে মিসে খাবার নিয়ে খায়িয়ে দিতা।
মনে আছে এখন পারবো না, তখন মিছে মিছে দিতাম। এখন আমার লজ্জা লাগে,
অরে আমার শোনা, প্লিজ দাও না এমন করো কেন, আমার খুব টাইয়ার্ট লাকছে।
আচ্ছা দাও,
এইতো আমার লক্ষী শোনা,
হুম!
খাবার খেতে খেতে পরিচয় টা দিয়ে দেই আপনাদের, আমি আকাশ, মা বাবা আদর করে নামটা রেখেছেন। পুরো নাম মোঃ আকাশ মিয়া। যে খায়িয়ে দিচ্ছে তার নাম ইতি, পুরো না নাইয়িমা আক্তার ইতি। আমি আদর করে সকিনার আম্মা বলে ডাকি, খুব বেশি ভালবাসি যদিও আমাদের এখনো সন্তান হয়নি।
কাশি দিতে দিতে,
ইতি - কি হয়েছে, এই নাও পানি।
আমি- জানটা বাচালে, নাহলেই আজ ( মুখ চেপে দরে)
ইতি - মাইর দিবো অই কথা উচ্চারন করলে।
আমি - তার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আনমনায় সুখ অনুভব করতে লাগলাম।
ইতি- এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো।
আমি - না কিছু না।
ইতি - খাও,
আমি- হুম।
আমাদের বিয়ে হয়েছে আজ ২ বছর। সেই ছোট বেলার ইতি আজ আমার বউ ভাপতেও অবাক লাগে৷ একদিন নয় কয়েকদিন আমি তাকে বিয়ে করেছি ছোট বেলায়। তখন বুঝতাম এই না বিয়ে কি ভালোবাসা কি। তাও দুজন মিলে খেলা করতাম। অহহ! ইতির বাড়ি এবং আমাদের বাড়ি মোটামুটি পাশাপাশি। আমি আর ইতি সমবয়সের। যদিও ইতি আমার থেকে বয়সে ২ বছরের ছোট। আমরা এক সাথেই বড় হয়েছি। আমি যখন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হই, সে তখন শিশু তে ভর্তি হয়৷ আমরা এক সাথেই ইস্কুলে যেতাম আসতাম। কেনো জানি তখন থেকেই তার প্রতি আমার মায়াটা একটু বেশি। আমি খুব আদর করতাম। খেলার সময় তাকে নিয়ে খেলতাম। সব সময় তাকে আমার দলে রাখতাম। তখন ও বুঝতে পাড়িনি সেই মেয়েটি একদিন আমার বউ হয়ে ঘরে আসবে। একদিন আমরা জামাই বউ খেলতে শুরু করলাম আমাদের সাথে আরো কয়েক জন ছিলো। খুব মজা হয়েছিলো খেলাটা। আমি জামাই ছিলাম আর ইতি বউ ছিলো। বাকিরা ছিলো মা বাবা। সবাই মিছে মিছি খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম৷ বিয়েও করলাম হঠাৎ দেখি ইতি পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলো। আর কেও এগিয়ে না আসলেও আমি কেনো জানি দৌরে গেলাম তার কাছে। তাকে কুলে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিলাম। প্রচন্ড ব্যথ্যা পেয়েছিলো। তার আম্মু খুব বকা দিয়েছিলো আমাকে তাকে নিয়ে কেনো খেলা করি। আসলে দুষ আমারেই ছিলো আমিই প্রতিদিন তাকে নিয়ে খেলতাম। তার আম্মু আমাকে যে বকা গুলো দিয়েছিলো তার মধ্য একটাও আমার গায়ে লাগেনি। কষ্ট হচ্ছিলো ইতির কান্না দেখে। খুব ব্যথ্যা পেয়েছিলো। আজ এই পর্যন্তই।
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছে, আসা করি ভালোই আছেন। ভালো থাকাটাই কাম্ম্য। গল্প গুলো কেমন হয়েছে জানাবেন৷ কেউ খারাপ বলবেন না। আমি সর্বদাই চেষ্টা করি মানুষ কে ভালো কিছু উপহার দিতে। আমার গল্প গুলো ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনকে। প্রিয়জনের সাথেই শেয়ার করা যায় দুঃখ সুখের গল্প। জানিয়ে দিন এই রোমান্টিক গল্পের কথা। ধ্যনবাদ।।।
0 Comments: