তার বিয়ে ঠিক হয় পাশের গ্রামের এক বন্ড ছেলের সাথে,
রাত তখন ১২ টা, আমি ঠিক নাগাত ১০ টাই ঘুমিয়ে পড়ি সেদিন, আমি তখনো কিছুই জানি না।
দুই থেকে তিন বার কল বাজার পড় আমার ঘুম ভেংগে যায়। আমি ঘুম থেকে তরিগরি করে উঠিতে উঠিতে কলটি কেটে যায়। উঠে দেখি একটা অপরিচিত নাম্বার থেকেই আমাকে তিনবার কল করা হয়। ঠিক চার বার এর মাথায় আমি কলটি রিসিভ করতেই অপাস থেকে।
নিলাঃ- আকাশ, আমি নিলা বলতেছি।
আমিঃ- হ্যাঁ বলো, নিলা আপু, এতো রাতে কি হয়েছে। হটাৎ
নিলাঃ- আমি অনেক আশা নিয়ে তকে কল দিয়েছি। একটা বিপদে পড়ে, আমি যতবার এই বিপদে পড়েছি তকে আমার পাশে পেয়েছি। আজ এই বিপদ থেকে একমাত্র তুই এই আমাকে উদ্ধার করতে পারিস। আমিঃ- আচ্ছা আচ্ছা, বলো কি হয়েছে।
নিলাঃ- আমাকে তুই বিয়ে করবি, আমি যতদিন বলবো তর বউ করে রাখতে ততদিন হলেই হবে।
আমিঃ- (হতবাগ) আমি এক লাফে উঠে বসে পড়লাম সুয়া থেকে উঠে। কি আপু কি বলতেছো, আজকে কি কোনো দিবস, নাকি কোনো স্পেশাল দিন, নাকি কারো সাথে চেলেঞ্জ নিয়েছো আমাকে বোকা বানানোর জন্য,।
নিলাঃ- আকাশ, আমি সত্যি সত্যি বলতেছি। অনেক বিপদে পড়ে তকে কল দিয়েছি। আমি সেদিন হুট করেই কুমিল্লায় চলে আসিনি। বাড়ি থেকে আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এমন কি আমি আসার পড় বিয়েও ঠিক করে ফেলেছে। মা বাবার মুখ রাখতে হলে এই বিয়ে আমাকে করতেই হবে, তুই ত জানিস, পাসের গ্রামের কুদ্দুস কতটা ভাল ছেলে, তার সাথে আমি সারাজীবন কিভাবে কাটাবো, এই দিকে মা বাবার মুখ রাখতে হলে নিজের জীবন টাকে রক্ষা করতে হলে যে তকে আমার এই সাহায্য টা করতেই হবে আকাশ, আমি কথা দিতেছি, আমার কোনো বরন পোষণের দায়িত্ব তর নিতে হবে না, গতকাল এই কুমিল্লায় একটা জব এর সন্ধান পেয়েছি। তা দিয়ে আমার চলে যাবে। আমি তর জীবন টাও নষ্ট করে দিবো না। আমি নিজে হাতে তকে ভাল সুন্দর একটা মেয়ে দেখে তর বউ করে দিবো। একটা বছর আমার জন্য কষ্ট করে ফেল, প্লিজ আকাশ প্লিজ, তকে বিয়ে করলে তাদের কে বললে আমাকে বাড়িতে আর যেতে দিবে না, কেউ বলতেও পারবে না আমার মা বাবা কে অই ছেলের সাথে বিয়ে না দিয়ে কেনো কথা দিলো, বা মেয়ের বিয়েই কেনো হল না। আকাশ তুই রাজি হয়ে যা প্লিজ,
আমিঃ-- তোমাকে ১ ঘন্টা পড়ে জানাচ্ছি।
বলে কল টা কেটে দিলাম, অনেক চিন্তা ভাবনা করে কল দিলাম। আর হ্যাঁ আপু অনেক ভালো মানুষ, তার সাথে একটা জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায়। মনে মনে আমিও তাকে পছন্দ করতাম। কিন্তু আপু আমাকে বিয়ে করবে শুধু মাত্র তার বাবা মায়ের মুখটা রাখার জন্য,। আমি চিন্তা করলাম আমি সব সময় তার পাশে ছিলাম, আজ না হয় এই আকাশ তার কাছে হার এই মেনে নিলো, ভেবে কল দিয়ে রাজি হয়ে গেলাম,।
রাত তখন ৩ টা ঘুম আসছিলো না, ঘর থেকে বের হয়ে অপেক্ষা করছিলাম কখন সকাল হবে, তাকে বলেছি কাল এই আমাদের বিয়ে হবে, তার থেকে জানতে পাড়ি তার কাছে সব কাগজ পত্রই আছে। বাকি শুধু আমার কাগজ পত্র গুলো। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো, সকালে রেডি হয়ে মনে মনে সবকিছু গুছিয়ে বের হয়ে গেলাম ATM বোথ এর দিকে, বের হওয়ার সময় আম্মুকে বলেছিলাম আম্মু আমি একটু কুমিল্লায় যচ্ছি আমার জন্য দোয়া করো,।
তার পড় বোথ থেকে টাকা তুলে আমি কুমিল্লার উদ্দেশ্য রোওনা হলাম। অনেক কষ্ট লেগেছিলো, যখন গিয়ে দেখেছি, আমার এই সিনিয়র আপুটা কুল দাড়া একটা চুক্তি পত্র এর মধ্যেই রেডি করে রেখেছিলো। চুক্তি পত্রে লেখা ছিলো যখন নিলার ইচ্ছে হবে তখন এই সে আমাকে ছেড়ে যাওয়ার যোগ্যতা রাখবে। আমি আর কিছুই না ভেবে চুক্তি পত্রে সই করে কাজি অফিসে চলে গেলাম, আমাদের বিয়ে হলো,

0 Comments: