পরের দিন সকালে যেই ভাবা সেই কাজ। বইটা নিয়ে চলে গেলাম তাদের বাড়িতে। গিয়ে দেখি আন্টি আর ইতি ঘরে টিভি দেখছে। আমি গিয়ে রোমে ডুকতেই ইতি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো, আমিও তাকিয়ে ছিলাম। আন্টি কে জিজ্ঞাস করলাম খাওয়া দাওয়া শেষ হয়েছে কিনা। তার পর একটু বসলাম তখন এতটা ভয় করছিলো না। আমি ইতি কে ইংগিত করে বললাম। এইযে তোমার বইটা। টেবিলের উপরে রাখার পর। তার পড় আমি আবার বাড়িতে চলে এলাম। আমি আবার আগের মত দিন শুরু করলাম। আর সেদিনের পড় থেকে ইতিকে যেনো একটু বেশি বেশি মিস করতে লাগলাম। এইভাবে কেটে গেলো আমার দিন। আমার পরিক্ষা শেষ হলো। রেজাল্ট বের হলো। যে দিন রেজাল্ট বের হলো সেদিন ছিলো আমার সব থেকে দুঃখের দিন আমার সব বিষয়ে রেজাল্ট ভালো আসার পড়েও আমি কিভাবে যেনো একটা বিষয়ে ফেইল করে ফেলি। সেদিন সারাদিন খুব কষ্টে কেটেছে। অস্থির অস্থির লাকছিলো। কিছুই ভালো লাকছিলো না। সেদিনের কথা মনে হলে আজও অনেক কষ্ট হয়। সেদিন আমাকে কেউ একটু শান্তনা না দিলেও ইতির আম্মু আমাকে এসে শান্তনা দিয়েছিলো। তার পড় আরও একটা বছর কেটে গেলো বাড়ির বাহিরে। আমি চলে গেলাম ফেনীতে, সেখানে একটা কোম্পানির কাজ করছিলাম। দিন গুলো খুব ভালো কাটছিলো। তবে ইতিকে যেনো একটু বেশি মিস করতে ছিলাম। ইতির কথা আমার প্রতিদিন মনে হতো। তখন একটু খারাপ লাকতো এইটা ভেবে তাকে অনেক দিন দেখি না। তার পর প্রায় এক বছর পড় আমি বাড়িতে আসলাম। বাড়িতে আসার পড় প্রথমেই যেনো তাড় চেহারাটা দেখলাম। এসে দেখি সে আমাদের বাড়িতে বসে আছে। দেখতে অনেক কিউট হয়ে গেছে, আগের থেকে অনেক সুন্দর লাকছিলো। অনেক মিষ্টি একটা চেহারা । তার পড় শুরু হলো তাদের পরিক্ষা । আমিও আবার পরিক্ষা দেওয়ার জন্য ইস্কুলে যোগাযোগ করলাম পরিক্ষা শুরু হলো। আমিও পরিক্ষা দিলাম। তখন পরিক্ষা দেওয়ার পড় আর কোথাও বের হওয়া হয়নি। সেও না, মাঝে মাঝে তাকে দেখার জন্য আমি তাদের বাড়িতেই চলে যেতাম। তখন তার সাথে আমার একটু একটু কথা হতো। তবে আমার ভয় টা এখনো কেটে উঠেনি। আমি তাকে খুব ভয় পেতাম। দেখলেই আমার বুকটা দুরু দুরু করে কেপে উঠতো । কিছুদিন পড় আমাদের রেজাল্ট বের হলো। মজার বেপার হলো আমার আর তার রেজাল্ট একি আসলো। সেম সেম পয়েন্ট উঠেছিলো। আমরা কলেজে ভর্তি হলাম। আমাদের ইস্কুলে কলেজ থাকার পরেও আমি ইতি এবং ইতির কয়েকজন বান্ধবী আমরা অন্য একটা কলেজে ভর্তি হলাম। আমরা সবাই প্রতিদিন কলেজে যেতাম একসাথে। আবার একসাথেই আসতাম কথা বলতাম কিন্তু কখনো সেই ভাবে সাহস হতো না, তাকে ভালবাসি বলার। জানি না সে কি বুঝে কিনা। এতদিনে আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম। নাম্বার আদান প্রদান হলো। প্রতিদিন কথা হত রাতে দুপুরে সকালে। যদিও আমরা এস এম এস এ কথা বলতাম। আমার খুব ভালো লাকতো যখন ইতির সাথে কথা বলতাম। তখনের দিন গুলো যেনো আরও ভালো কাটতে শুরু করলো। তবে একটু ভয় লাকতো যদি কোনো ভাবে আমার এইসব বিষয় গুলো জেনে যায় তার পর যদি আমার দুরুত্ব হয়ে যায়। তত দিনে তার সাথে আমি খুব ক্লোজ হয়ে যায়। সব সময় এস এম এস দিতো আমিও দিতাম। একদিন তার বন্ধবী গুলো কলেজে যায়নি, আমাকে জিজ্ঞাস করলো আমি যাবো কিনা। আমি আর না করলাম না তারাতাড়ি রেডি হয়ে কজেলের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। তখন আমি আর সে আমরা দুজন অইদিন এক সাথে নানান বিষয়ে কথা বললাম। আমাকে জিজ্ঞেস ও করেছিলো কেমন মেয়ে আমার পছন্দ। সেদিন শুদু তাকে বলেছিলাম তার মত কোনো মেয়ে পেলে বিয়ে করবো না হলে করবো না। এইটা যেনো একদম খুব সাধারণ ভাবেই সে নিয়েছিলো। আমি ভেবেছিলাম রাগ করবে। কিন্তু করেনি। বেচে গেলাম। ভয় হতো যদি হারিয়ে যায়। আমিও সেদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম তার কেমন ছেলে পছন্দ, সেও আমাকে হাসি মুখেই বললো আমার মত ছেলে নাকি তার পছন্দ। যদি সে মজার ছলে সত্যি কথায় বলছিলো। কিন্তু আমি খুব ভয়ে তাকে আর বুঝতে দিতাম না কিছু। সেদিনের ঘুমটা হারাম হয়ে গিয়েছিলো। বার বার শুদু তার কথায় মনে পরছিলো।
আজ এই পর্যন্তই। দেখা হবে আগামী পর্বে।
0 Comments: